
ভারত সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় অসংগঠিত খাতের শ্রমিকদের জন্য ই-শ্রম যোজনার মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা প্রদানে উদ্যোগ নিয়েছে। এই যোজনার আওতায় শ্রমিকদের জন্য একটি ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (UAN) প্রদান করা হয়, যার মাধ্যমে তারা বিভিন্ন সরকারি সুবিধা ও স্কিমের আওতায় আসেন। ই-শ্রম কার্ডের মাধ্যমে শ্রমিকরা পেনশন, দুর্ঘটনা বীমা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও অন্যান্য আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন।
ই-শ্রম কার্ড কী?
ই-শ্রম কার্ড একটি ডিজিটাল পরিচয়পত্র যা অসংগঠিত খাতের শ্রমিকদের প্রদান করা হয়। এই কার্ডে শ্রমিকের নাম, ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য ও একটি ইউনিক অ্যাকাউন্ট নম্বর (UAN) থাকে। এই UAN নম্বরের মাধ্যমে শ্রমিকরা বিভিন্ন সরকারি সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন।
ই-শ্রম কার্ডের জন্য যোগ্যতা
ই-শ্রম কার্ডের জন্য আবেদন করতে হলে নিম্নলিখিত শর্ত পূরণ করতে হবে:
- বয়স: আবেদনকারীর বয়স ১৬ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে হতে হবে।
- কর্মক্ষেত্র: আবেদনকারীকে অসংগঠিত খাতের শ্রমিক হতে হবে, যেমন নির্মাণশ্রমিক, কৃষি শ্রমিক, হকার, রিকশা চালক, গৃহকর্মী ইত্যাদি।
- সদস্যতা: আবেদনকারীকে EPFO (Employees’ Provident Fund Organization), ESIC (Employees’ State Insurance Corporation) বা NPS (National Pension Scheme) এর সদস্য না হতে হবে।
- আয়কর: আবেদনকারীকে আয়কর প্রদানকারী না হতে হবে।
ই-শ্রম কার্ডের জন্য প্রয়োজনীয় নথি
অনলাইনে ই-শ্রম কার্ডের জন্য আবেদন করতে হলে নিম্নলিখিত নথিগুলি প্রয়োজন:
- আধার কার্ড: আধার কার্ডের সঙ্গে লিঙ্ক করা একটি বৈধ মোবাইল নম্বর থাকতে হবে।
- ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ: ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর ও IFSC কোড।
- শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণপত্র: যেমন স্কুল সার্টিফিকেট।
- আয় সংক্রান্ত তথ্য: যদি থাকে, তবে আয় সংক্রান্ত প্রমাণপত্র।
- পাসপোর্ট সাইজের ছবি: যদি প্রয়োজন হয়।
ই-শ্রম কার্ডের জন্য আবেদন পদ্ধতি
অনলাইন আবেদন পদ্ধতি:
১. ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন: প্রথমে https://eshram.gov.in ওয়েবসাইটে যান।
২. রেজিস্টার অপশনে ক্লিক করুন: হোমপেজে “Register on e-Shram” অপশনে ক্লিক করুন।
৩. মোবাইল নম্বর ও ক্যাপচা কোড দিন: আধার কার্ডের সঙ্গে লিঙ্ক করা মোবাইল নম্বর ও ক্যাপচা কোড দিয়ে “Send OTP” বাটনে ক্লিক করুন।
৪. OTP ভেরিফিকেশন: মোবাইলে প্রাপ্ত OTP প্রবেশ করে “Validate” বাটনে ক্লিক করুন।
৫. আধার নম্বর ও শর্তাবলী: আধার নম্বর দিন ও শর্তাবলীতে টিক চিহ্ন দিয়ে “Send OTP” বাটনে ক্লিক করুন।
৬. ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ করুন: নাম, ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা, আয় ইত্যাদি তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করুন।
৭. ব্যাংক তথ্য দিন: ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর ও IFSC কোড দিন।
৮. প্রিভিউ ও সাবমিট করুন: সব তথ্য যাচাই করে “Preview” বাটনে ক্লিক করুন, তারপর “Submit” বাটনে ক্লিক করুন।
৯. OTP ভেরিফিকেশন: মোবাইলে প্রাপ্ত OTP দিয়ে “Verify” বাটনে ক্লিক করুন।
১০. ই-শ্রম কার্ড ডাউনলোড করুন: আবেদন সফল হলে UAN নম্বরসহ ই-শ্রম কার্ড প্রদর্শিত হবে। “Download” বাটনে ক্লিক করে কার্ডটি ডাউনলোড করুন।
অফলাইন আবেদন পদ্ধতি:
যদি আপনার কাছে ইন্টারনেট সুবিধা না থাকে, তাহলে আপনি নিকটস্থ কমন সার্ভিস সেন্টার (CSC) এ গিয়ে অফলাইনে আবেদন করতে পারেন। CSC কর্মীরা আপনাকে আবেদন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবেন।
ই-শ্রম কার্ডের সুবিধাসমূহ
- পেনশন সুবিধা: ৬০ বছর বয়স পূর্ণ হলে ₹৩,০০০ মাসিক পেনশন।
- বীমা সুবিধা: মৃত্যু বা স্থায়ী অক্ষমতার ক্ষেত্রে ₹২,০০,০০০ বীমা, আংশিক অক্ষমতার ক্ষেত্রে ₹১,০০,০০০।
- স্বাস্থ্য সুরক্ষা: সরকারি স্বাস্থ্য স্কিমের আওতায় চিকিৎসা সেবা।
- কর্মসংস্থান সুযোগ: ন্যাশনাল কেরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে চাকরির সুযোগ।
- দক্ষতা উন্নয়ন: কৌশল উন্নয়ন প্রশিক্ষণের সুযোগ।
- জরুরি সহায়তা: প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জরুরি অবস্থায় আর্থিক সহায়তা।
ই-শ্রম কার্ড ডাউনলোড ও আপডেট
ই-শ্রম কার্ড ডাউনলোড করতে বা তথ্য আপডেট করতে https://eshram.gov.in ওয়েবসাইটে গিয়ে “Already Registered” অপশনে ক্লিক করুন। এরপর UAN নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে OTP ভেরিফিকেশন করে প্রয়োজনীয় তথ্য আপডেট বা কার্ড ডাউনলোড করুন।
ই-শ্রম কার্ড অসংগঠিত খাতের শ্রমিকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র, যা তাদের বিভিন্ন সরকারি সুবিধা গ্রহণে সহায়তা করে। অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত, এবং অফলাইনে আবেদন করার সুযোগও রয়েছে। আবেদনকারীরা প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য সঠিকভাবে প্রদান করে এই কার্ডের সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন।
অফিশিয়াল ওয়েবসাইট: https://eshram.gov.in
